বগুড়া চারমাথা

বগুড়া চারমাথা হলো উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার

বগুড়া চারমাথা হলো উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। বগুড়া শহর, নওগাঁ, ঢাকা, ও উত্তরবঙ্গের এই চার রাস্তার সংযোগস্থল। ঢাকা হতে বগুড়ার দূরত্ব প্রায় ২০২ কি.মি. বগুড়া চারমাথা মডেল স্কুল, চারমাথা কলেজ, চারমাথা পলিটেকনিক, চারমাথা উচ্চবিদ্যালয়।

বগুড়া চারমাথার পরিচয়

বগুড়া শহর, নওগাঁ, ঢাকা, ও উত্তরবঙ্গের এই চার রাস্তার সংযোগস্থলকেই বগুড়া চারমাথা বলে। বগুড়া এই অঞ্চলে চারমাথা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীনতম এলাকা। চারমাথা প্রাচীনকালে একটি শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য ছিল এবং ভাষা, সাহিত্য, ও সাংস্কৃতিক প্রগতির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল।

বগুড়ার চারমাথা একটি প্রাচীন এবং শান্তিপূর্ণ এলাকা, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একত্রে মিশে আছে। চারমাথা নদীর সমীপে অবস্থিত, যার তীরে বাগান, মাঠ, এবং বগুড়ার চিঠিরা বৃক্ষগুলি ছড়িয়ে আছে। এখানে প্রচুর প্রজন্মের বৃদ্ধি করে আসা বাগানগুলি ভ্রমণকারীদের আকর্ষণে রাখছে।

এই চার মাথাতেেই রয়েছে একটি অনেক বড় বাস টার্মিনাল। বগুড়ার চারমাথা এলাকার ইতিহাসে অবতীর্ণ বিশেষ ঘটনার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, এবং এই অঞ্চলে সময়ের ধারায় অবস্থান করে এমন অনেকগুলি ঐতিহাসিক স্মৃতির সাক্ষী। চারমাথা বগুড়ার একটি বৃহত্তর ইউনিয়ন, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে পরিপূর্ণ।

বগুড়া চারমাথার ভূমিকা

বগুড়া চারমাথা হলো উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। এখান থেকে ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গে যাবার জন্য দিন এবং রাতে প্রায় সময়ই বাস পাওয়া যায়। বগুড়া জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিপূর্ণ জেলা। বগুড়া জেলার চারমাথা একটি প্রমুখ এলাকা।

রংপুর – ঢাকা মহাসড়কের উপরে নির্মিত হয়েছে একটি ফ্লাইওভার যা ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।সারাদিন  বিভিন্ন বাসের হাকডাক চলে নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ, ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় ইত্যাদি ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

বগুড়া চার মাথার অবস্থান

বগুড়া জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিপূর্ণ জেলা। বগুড়া জেলার চারমাথা একটি প্রমুখ এলাকা, যা এই জেলার একটি পৌরসভা এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের অংশ। চারমাথা বৌদ্ধ বিহার হিসেবে পরিচিত, যা প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যে অনেকবার উল্লেখিত। 

এই স্থানটি প্রাচীন কালের ঐতিহাসিক উপকরণে প্রসিদ্ধ। এখানে বৌদ্ধ মহাস্থবিরের অধিষ্ঠান ছিল এবং এটি বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধার্মিক ও শিক্ষানীতির কেন্দ্র ছিল।

বগুড়া চারমাথার স্থাপনা

বগুড়া চারমাথা, বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান, যা রাজশাহী জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি একটি উন্নত শহর হিসেবে উভয় কৃষি এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গড়ে উঠেছে। রংপুর – ঢাকা মহাসড়কের উপরে ফ্লাইওভার, বাস টার্মিনাল, রিক্সা, অটোরিকশা, সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে একেবারেই চারমাথার মোড়ই। 

বগুড়া চার মাথার যোগাযোগ ব্যবস্থা

রাজশাহী, ঢাকা, উত্তরবঙ্গ সহ বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে এসে এই চার মাথার মোড়েই নামতে পারবেন। এখান থেকে সিএনজি বা বাসে করে সান্তাহার এবং নওগাঁ যেতে পারবেন। অটোরিকশা বা সিএনজিতে ১০/১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে বগুড়া শহর বা বগুড়া সাতমাথা যেতে পারবেন।

শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চার তারকা বিশিষ্ট নাজ গার্ডেনে ও অটোরিকশা বা সিএনজি করে ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে পারবেন। এখান থেকে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় বেশি দূরে নয় সিএনজি বা বাসে করেই যাওয়া যায়।

বগুড়া চারমাথার শিক্ষা ব্যবস্থা

চারমাথা প্রাচীনকালে একটি শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য ছিল এবং ভাষা, সাহিত্য, ও সাংস্কৃতিক প্রগতির সাথে যোগাযোগ করে। বগুড়া চারমাথা একটি শিক্ষামুলক এলাকা, যেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। 

এখানে বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত রয়েছে, যেগুলি ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষায় ভরসা দেওয়া হয়। বগুড়া চারমাথা মডেল স্কুল, চারমাথা কলেজ, চারমাথা পলিটেকনিক, চারমাথা উচ্চবিদ্যালয় ইত্যাদি এখানে অবস্থিত। 

এই প্রতিষ্ঠানগুলি পৌরসভা এলাকার শিক্ষার মান উন্নত করে তুলছে তাছাড়া এখানে অনেক টিউশন এবং কোচিং সেন্টার রয়েছে। এখানে শিক্ষার সাথে সাথে সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা এবং বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক ও আধুনিক দৃষ্টিকোণে উন্নত করছে।

বগুড়া চারমাথার মোড়ের খাবার সমূহ

এই চার মাথার মোড়ে রয়েছে কিছু ভাত খাবার এবং  হালকা নাস্তা করার মতো হোটেল। এই মোড়ের রাস্তার পাশেই আছে বিভিন্ন নামিদামি বিভিন্ন মানের বগুড়ার বিখ্যাত দইয়ের দোকান সাথে পাবেন বিখ্যাত মহাস্থান ঘরের কটকটি। এখানে পাবেন বেশ কিছু ফলের দোকান। 

চারমাথা থেকে নওগাঁ যেতে রোডের ডান পাশে রয়েছে আকবরিয়া মিডওয়ে রেস্টুরেন্ট যেখানে সব ধরনের ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়।

বিকেল বেলায় পাবেন বেশ কিছু স্ট্রিট ফুড যেমন নুডুলস, বিভিন্ন ধরনের চপ, টিকা, সেদ্ধ ডিম, মুড়ি মাখা, বাদাম ও ছোলা ভাজা সহ ইত্যাদি মন জুড়ানো মুখরোচক খাবার। যেগুলো খেয়ে অনেকে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন আবার অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের চাপে ওষুধ খেয়ে পেট চাপরাচ্ছেন।

বগুড়া চারমাথার হাট বাজার

একেবারে ভোরবেলায় এই চার মাথায় রংপুর, দিনাজপুর, নাটোর, রাজশাহীসহ অন্যান্য অঞ্চল হতে বিভিন্ন জাতের এবং বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় মাছ পাইকারি বাজার বসে। পাশে রয়েছে নওগাঁ রোডের দুই ধারে গোদার পাড়া বাজার যার দূরত্ব মোড় থেকে পায়ে হেঁটে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত মিনিটেই যাওয়া যায়।

যেখানে মুদি ও ওষুধের দোকান থেকে শুরু করে পাইকারি ডিমের দোকান শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের মুরগি, মাছ, মাংসসহ সরিষার ঘানি মিল ও রয়েছে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, কোচিং সেন্টার, স্টাডি টেক নামে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার এবং ফ্রিল্যান্সিং শিখে ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করার মতো প্রতিষ্ঠান ও রয়েছে।

বগুড়া চার মাথার দূরত্ব

ঢাকা হতে বগুড়া চারমাথার দূরত্ব প্রায় ২০২ কি.মি, রাজশাহী হতে ১২২ কি.মি, রংপুর হতে ১০৫ কি.মি, পাবনা হতে ১২৬ কি.মি, কুষ্টিয়া হতে ১৪৪ কি.মি। এবং বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা হতে ৩.৬ কি.মি ও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় হতে এর দূরত্ব মাত্র ১২ কি.মি।

চারমাথা নিয়ে মনের খচখচানি

বগুড়া চারমাথা নিয়ে মনের খচখচানি দূর করতে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা। হিন্দুদের পৌরাণিক কাহিনীতে যেমন রয়েছে রাম, লক্ষণ, না যেন  রাবণের পাঁচমাথা না সাতমাথা তবে এখানে পাঁচমাথা, সাতমাথা বা মানুষ গরু ছাগলের মাথা বলতে তেমন কিছুই নেই এখানে শুধু চারদিকের চার রাস্তার মিলন বা সংযোগ স্থলকেই  বলে চারমাথা।

বগুড়া চারমাথায় পর্যটকদের আবাসিক ব্যবস্থা

এই মোড়ের নওগাঁ বাস স্ট্যান্ডের অপর পাশে রয়েছে ভালো মানের সেঞ্চুরি আবাসিক হোটেল। একটু এগিয়ে গেলেই রাস্তার একই পাশে রয়েছে সেফওয়ে পর্যটন মোটেল। এই দুই আবাসিক হোটেলেই এসি এবং নন এসি রুম নিয়ে নিরাপদে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। তাছাড়া আশেপাশে সাধারন কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে।

পাঠকদের মনের সম্ভাব্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর

প্রশ্নঃ চারমাথা কোথায় অবস্থিত?

উত্তরঃ বগুড়া শহরের থানা মোড় হতে ৩.৬ কিঃমি পশ্চিমে রংপুর – ঢাকা মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

প্রশ্নঃ বগুড়া চার মাথায় কিভাবে আসবেন?

উত্তরঃ রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা সহ বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত হতে বাসে করে মোড়েই নামতে পারবেন।

প্রশ্নঃ বগুড়া চারমাথা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন?

উত্তরঃ এখান থেকে ভোর হতে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা সহ বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে যাওয়া যায়।

উপসংহার

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ফ্লাইওভারের ঠিক নিচে এই চারমাথা অবস্থিত। এখানে রাস্তার উপরে  রাস্তা দেখে ভিমড়ি খাবার কিছু নেই কারণ এটা ফ্লাইওভার এটার উপর দিয়েই গাড়ি চলাচল করে। তো বন্ধুগণ এ কথাই রইল বগুড়া চারমাথা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের মনে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে অবস্থান করে বেঁচে থাকুক বহমান হয়ে চিরকাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *