অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

স্টাডিটেক অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়া

অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং পেশাটির প্রতি  অনেকেরই আলাদা একটি আগ্রহ আছে। অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চায়। অনেকে সফল হন আবার অনেকেই ব্যাথ হন। যারা সফল হন তারা বেশ কিছু ভাল গুণের কারণেই সফল হয়। অপরদিকেযারা ব্যর্থ হন, তারা বেশ কিছু ভুল/ত্রুটি কিংবা বদঅভ্যাসের জন্যই ব্যর্থ হন। এ কাজের জন্য শুধু কার্যদক্ষতাই নয় বরং মানসিক সামর্থও যথেষ্ট পরিমান প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায় ফ্রিল্যান্সার নিজেও জানে না, কেন তার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সিং যেমন সহজ কাজ নয়। তেমনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের আয়ও তুলনামূলক ভাবে অন্য পেসা থেকে কোন অংশে কম নয়।

ফ্রিল্যান্সিং জীবন সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়। একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের সফল হওয়ার পেছনের গল্প অনেক কঠিন হয়। কারণ সফলতার পেছনের গল্প আনন্দের হয়না, অনেক স্ট্রাগল থাকে। ধৈর্য ধরে টাকার আশা না করে কাজে দক্ষ হওয়ার জন্য মাসের পর মাস সময় দেয়া, এসব থাকে একজন ফ্রিল্যান্সারের সফলতার পেছনে।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক।

ধরুন আপনি বিএসসি পড়ছেন। হিসাব বিজ্ঞান নিয়ে। পড়াশোনা শেষ করতে সময় লাগে ২০-২৫ বছর। ২০-২৫ বছর পড়াশোনা করে আপনি একটা জবে ফ্রেশার হিসেবে এপ্লাই করেন, যার বেতন ১৫ হাজারের মত। অনেকবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়, কারণ আরও শত-শত জন আবেদন করেছে। শেষমেশ অনেক কষ্টে একটা জব হয়ত পান।

১৫ হাজার টাকার জব করার জন্য ২৫ বছর পড়াশোনা করলেন দু-বার না ভেবে। পড়াশোনা শেষ করে একটা লোকাল জবের জন্য প্রতিযোগীতায় নামলেন একই শহরের অন্যদের সাথে, যারা কিনা আপনার লেভেলের পড়াশোনাই করেছে।

এবার ভাবুন ফ্রিল্যান্সিং এর কথা, আমেরিকার একটা কোম্পানি তাদের একটা জব আউটসোর্স করল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে। ২ সপ্তাহের প্রজেক্ট, ১ হাজার ডলার। এপ্লাই করল কারা? সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ওপেন, (ছোট শহর নয়), বিশ্বের টপ প্রফেশনালরা এপ্লাই করল, আপনিও করলেন। তার মানে? এবার আপনার প্রতিযোগীতার লেভেল কোথায়?

এবার ভাবুন, এই লেভেলে প্রতিযোগিতার জন্য আপনি শুধু ২ মাসের কোর্স করেই দক্ষ হতে পারবেন? অবাস্তব নয়?
হ্যাঁ এটা সত্যি যে ফ্রিল্যান্সিং করে লাখ টাকা আয় করা যায়, সার্ভেতে দেখা যায়, এ দেশে ২০% এর বেশি ফ্রিল্যান্সার মাসে ২ লাখের উপর আয় করে। কিন্তু তারা ২ মাসে কোর্স করে এত দূর আসেনি। তারা অন্তত এক বছর সময় নিয়ে টাকা আয়ের কথা না ভেবে শেখার উপর জোর দিয়েছিল!
যেখানে ১৫ হাজার টাকার জবের জন্য ২০ বছর পড়াশোনা করলেন, মাসে কয়েক লক্ষ আয় করতে, বিশ্বের টপ-লেভেল প্রফেশনালদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে ১-২ বছর সময় দিয়ে কাজ শিখবেন না?

কাদের জন্য এই মুক্ত-পেশা?

– যাদের অতিরিক্ত লোভ নেই।
– যারা কাজ শেখার ধৈর্য রাখে।
– যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মত কমিউনিকেশন জানে।
– যারা শর্টকাটে টাকা আয় করতে চায় না।
– যাদের জীবনে কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আছে।
– যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়।
– যাদের শেখার প্রবণতা আছে।

যারা এ পথে না আসলে ভাল করবেনঃ

  • যারা কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যায়ন করেন।
  • যারা সহজে আয়ের পথ খুঁজছেন।
  • যারা চাকরির বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে ভাবছেন।
  • যারা মনে করছেন শেখা শুরুর ১৫দিন – ১ মাসের মধ্যেই কারিকারি টাকা আয় করবেন।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টারের চটকদার বিজ্ঞাপন ‘ঘরে বসে লাখ টাকা’ দেখে এই পেশার জন্য আগ্রহী হয়েছন।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং কে খুব সহজ ভাবেন।

কিভাবে আসবেন এ পথে?

আগে জানুন এ খাতে কোন কোন ফিল্ড আছে। (রেফারেন্স লিংক: upwork, fiverr)
তারপর ভেবে দেখুন আপনার এখন যে ব্যাকগ্রাউন্ড, স্কিল এবং ইন্টারেস্ট; সেটার সাথে কোন ফিল্ড মিলে যায়।

বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ঐ ফিল্ড গুলোর এখন পোস্ট করা জব গুলো ঘেঁটে দেখুন, বুঝার চেষ্টা করুন এ ধরণের কাজে কি কি স্কিল লাগে।
ঠিক করার পর এবার চেষ্টা করুন কোথা থেকে শেখা যায়, অনলাইনেই শেখা যায় ধৈর্য থাকলে। এদেশে প্রথম সারির ফ্রিল্যান্সাররা নিজে নিজেই শিখে সফল।

কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন এই সময়ে এসে, স্কিল্ড হওয়ার পর পরামর্শ নিন কিভাবে ফিল্ডে নামা যায়। প্রথমেই ‘ভাই, ইনকাম করার সহজ পথ বলেন’ বলে কাউকে ইরিটেট করবেন না।

চেষ্টা করতে থাকেন, ফেইল করলে ভুল গুলো শুধরে আবার ট্রাই করেন। যে কাজে আপনাকে এক্সেপ্ট করেনি, সে কাজ নিজেই করুন, সেম্পল প্রজেক্ট হিসেবে প্র্যাক্টিসও হবে, পোর্টফোলিও হবে।
ধৈর্য ধরে নিজেকে আরও স্কিল্ড বানানোর জন্যে নতুন নতুন কিছু স্টাডি করুন।

কিছু ভুল ধারণাঃ

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শেখা যায়!
৫ হাজার টাকা দিয়ে ২ মাস কোর্স করলেই হাজার হাজার টাকা আয় করা যায়!
ট্রেইনিং সেন্টারে গেলেই সফল হওয়া যায়!

CAPTCHA এন্ট্রি, ফেইক লাইক, পিটিসি, BET365 এগুলো ফ্রিল্যান্সিং!
ফ্রিল্যান্সিং করা খুব সহজ, দিনে ২ ঘন্টা সময় দিলেই হাজার টাকা!
ফ্রিল্যান্সিং মানে SEO.

ফ্রিল্যান্সিং আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য, বিজনেস, নন-আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছেলে মেয়েদের জন্য না।
ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটি ওরিয়েন্টেড ফিল্ডে কাজ করতে হবে।

কিছু অপ্রকাশিত তথ্যঃ

দেশে ৬ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং অথবা অনলাইন প্রফেশনাল।
নাম-সর্বস্ব ট্রেইনিং সেন্টারের সংখ্যা ১১০০০ +
ট্রেইনিং প্রাপ্ত নাম-সর্বস্ব স্কিল্ড ছেলেমেয়ের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি (এর অর্থ হল ১৪ লক্ষ বেকার, কারণ তারা সত্যিকার অর্থে স্কিল্ড না)।

নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই ছাড়া) ব্যাকগ্রাউন্ড এর জন্য কাজের সংখ্যা মোট মার্কেটের ৫৩%। আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের সবার ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটির কাজ শিখতে হবে না, তাদের নিজেদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজই আছে মার্কেটে অনেক।

আলহামদুলিয়াহ উওর বঙ্গের প্রবেশ দার বগুড়ায় আমরা স্টাডিটেক এর মাধ্যমে ৩ বছর যাবত দক্ষতার সাথে ফ্রীল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছি। আপনি কি এখনও কোন ভাল প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাছেননা? আমারা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি অবশ্যই হতাশ হবেন না। আপনি স্টাডিটেক এর মাধমে যে কোন একটি কোর্সে অংশ গ্রহন করুন এবং এর মাধমে নিজের অনলাইন প্রফেশনাল ক্যারিয়ার গঠন করুন।

♦ আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন:
লোকেশন: Mondol Mansion (4th Floor), Santahar Road Goderpara Bazar, Bogra
যে কোন যোগাযোগের জন্য: ফোন: 01827652103

#FB Group: https://www.facebook.com/groups/studytechbd

#FB Page: https://www.facebook.com/studytechonline

#Website: http://studytechbd.com

1 thought on “স্টাডিটেক অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়া”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *